আজ ৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি খুলনা জেলার আহবায়ক কমিটির ঘোষণা

বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলায় বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করার দাবীকে গণদাবীতে রূপ দিতে বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন।

শুক্রবার ( ২৬ নভেম্বর ) সভায় বিশ্ব ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিনকে আহবায়ক ও কুলটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিরণ্য চন্দ্র মন্ডল সদস্য সচিব করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আব্দুল হালিম মুরাদ যুগ্ন-সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি  কনক কুমার মন্ডল সহ-মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটি।

সভায় খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শিক্ষকবৃন্দ বক্তব্য পেশ করেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মোঃ আব্দুল হালিম মুরাদ কনক কুমার মন্ডল,  মোঃ হুমায়ুন কবির, শেখ মোঃ বাবুল হোসেন, হিরণ্য চন্দ্র মন্ডল, আবু সালেহ মোঃ নুরুল হক, আফজাল হোসেন, দিপক কুমার মিস্ত্রি
আব্দুল্লাহ আল মামুন, এ এইচ এম ইখতিয়ারুল হক (স্বপন), আহমেদ তালহা, তৃদ্বীপ রায়, মোঃ আক্তারুল ইসলামসহ আরও অনেকে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির  কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বোরহান উদ্দিন সরকার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব এস. এম. হাবিবুর রহমান প্রধানবক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও সভায় বক্তব্য পেশ করেন জনাব ফয়েজ আহমেদ সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটি, জনাব মোঃ মনির হোসেন ,উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, জনাব আসাদুজ্জামান প্রেসিডিয়াম সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি, জনাব ইউনুস শিকদার সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি।

বক্তারা সবাই তাদের বক্তব্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন শোষণ বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবীগুলোকেও উত্থাপন করেন।

বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির  মহাসচিব  জনাব এস. এম. হাবিবুর রহমান বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা আজ প্রতি পদে পদে বঞ্চিত। আজ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈষম্যের সীমা নাই।

১. চাকুরির নিরাপত্তা বলা হয় বদলি ব্যবস্থাকে। অথচ আজও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্যে বদলি বাস্তবায়ন হয়নি।
২. এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরকে নামমাত্র এক হাজার টাকা (১০০০/-) বাড়িভাড়া দেওয়া হয়।যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
৩. এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা চিকিৎসা ভাতা পান মাত্র ৫০০/- ( পাঁচশ টাকা)
৪. আজও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা চালু হয়নি। যা অত্যন্ত অমানবিক।
৫. শিক্ষকদের বেতন থেকে অতিরিক্ত কোন সুযোগ-সুবিধা না দিয়েই অতিরিক্ত ৪% কর্তন করা হচ্ছে।
যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
৬. অবসরের পরে শিক্ষকদের বেতন থেকে কর্তনকৃত টাকা যা অবসর ও কল্যাণ ট্রাষ্ট নামে পরিচিত। সেই অবসর ও কল্যাণ ট্রাষ্টের টাকা পেতে বিড়ম্বনার শেষ নেই। কোন কোন শিক্ষক আবার সেই টাকা অপ্রাপ্তির বেদনা নিয়েই কবরে চলে যান।

এছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অযাচিত হস্তক্ষেপ শিক্ষকদের দূর্দশার মাত্রা সীমাহীন করেছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা এসব অন্যায় অত্যাচার আর মেনে নেবে না। এসব বৈষম্য দূর করার একমাত্র উপায় হল এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ করা।

আমরা বিশ্বাস করি,  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মজিব বর্ষকে চিরস্মরণীয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে রাঙিয়ে রাখতে অচিরেই এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ ঘোষণা করবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ বোরহান উদ্দিন সরকার বলেন,” এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাই দেশের প্রায় ৯৭% শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। একই দেশ, একই বই, একই সিলেবাস, একই শিক্ষাব্যবস্থা। আর সবকিছু একই হওয়া স্বত্তেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা আজ পাহাড় সমান বৈষম্যের শিকার। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমাদেরকে আত্ম-সচেতন হতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায়ে শিক্ষকদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একতাই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। আজ বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ তাদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে।

মানব চেতনা/এইচএম

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category