আজ ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনায় অদম্য পথচলায় উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবক জানিফ আহমেদ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

করোনা মহামারির নীরব বিস্ফোরণে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা বিশ্বটাকে। থেমে গেছে বিশ্বের অর্থনৈতিক চাকা। অর্ধাহারে- অনাহারে কাটছে শত শত মানুষের জীবন। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যকর্মী বা জনপ্রতিনিধিসহ মহান ব্যক্তিরা দিন-রাত আতঙ্কে থাকেন তখন সাধারণ মানুষ কী করবে তা ভাবার বিষয়। নিজেদের ভালোবাসার মানুষগুলো এ মহামারি বিস্ফোরণ থেকে মুক্ত থাকতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। ঠিক তখনই ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন গঠন করে একদল স্বেচ্ছাসেবক। উপজেলা প্রশাসনের ডাকে সাড়া দিয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে অদ্য সময় পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষের সুরক্ষায় পাশে দাঁড়ায়। এমনি এক যুবক উপজেলা প্রশাসনের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে খবরে পিছনে থেকে নিজের জীবনকে বাজি রেখে প্রতিনিয়ত করোনা যুদ্ধে মানুষকে সুরক্ষা দিতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। বলছিলাম নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবক জানিফ আহমেদের কথা। তুলে ধরতে চাই সেই যুবকের কর্মযজ্ঞ। কাজকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় মানুষের পাশে থাকাটাই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন এই যুবক। আর তাই উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিকতায় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক টিমের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে শুরু থেকেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন নিবেদিতভাবে।
কখনও প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে, আবার কখনও করোনা পজিটিভ রোগীর বাসায় গিয়ে খোঁজ- খবর নেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার আছে কি না খোঁজ নিয়েছেন জানিফ আহমেদ। বাসা- বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পাওয়া গেলেও তাদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে যোগাযোগ করতেন এই যুবক। সাধারণ মানুষসহ মসজিদ ও মন্দির গিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা রাখতে মাস্ক পরিধান করার পরামর্শসহ নানান নিয়মাবলী দিতেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নে লকডাউন কার্যকরে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। ইতোমধ্যে এই যুবকের কাজের সাড়া পেয়েছে ঈশ্বরগঞ্জ পুরো উপজেলায়। প্রশংসিত হয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের কাছেও। স্বেচ্ছাসেবক জানিফ আহমেদ শুধু উপজেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেননি তিনি। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক সংগঠনেরও কাজ করে আসছেন। এ পর্যন্ত তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধ্যমে ২০০টি নিম্নবিত্ত ও অসহায় পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী তুলে দিয়েছেন। জানিফ আহমেদ এ বিষয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধারা নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে পারে তাহলে আমরা কেন অল্প সময়ের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে পারবো না। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, তবে অদৃশ্য করোনা যুদ্ধ দেখছি। তাই এ যুদ্ধে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি।
তিনি আরও বলেন, অসহায়রা উপহার পাওয়ার পর তাদের চোখ- মুখ থেকে যে প্রষ্ফুটিত হাসির প্রতিফলন ঘটে তখন করোনাকালের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যায়। এ যেন অপ্রাপ্তির মধ্যে বিশাল প্রাপ্তি। আমরা সবাই যদি এসব বিপদগ্রস্ত প্রাণের ডাকে সাড়া দিয়ে দাঁড়াই তাহলে এই যুদ্ধে আমরাই জয়ী হবো। এমন মহতী উদ্যোগে আপনারা সামিল হোন।

এ পর্যন্ত তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধ্যমে ২০০টি নিম্নবিত্ত ও অসহায় পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী তুলে দিয়েছেন। জানিফ আহমেদ এ বিষয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধারা নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে পারে তাহলে আমরা কেন অল্প সময়ের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে পারবো না। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, তবে অদৃশ্য করোনা যুদ্ধ দেখছি। তাই এ যুদ্ধে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি।
তিনি আরও বলেন, অসহায়রা উপহার পাওয়ার পর তাদের চোখ- মুখ থেকে যে প্রষ্ফুটিত হাসির প্রতিফলন ঘটে তখন করোনাকালের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যায়। এ যেন অপ্রাপ্তির মধ্যে বিশাল প্রাপ্তি। আমরা সবাই যদি এসব বিপদগ্রস্ত প্রাণের ডাকে সাড়া দিয়ে দাঁড়াই তাহলে এই যুদ্ধে আমরাই জয়ী হবো। এমন মহতী উদ্যোগে আপনারা সামিল হোন। দেশ ও মানবতার স্বার্থে এগিয়ে আসুন। জয় হোক মানবতার।

মানব চেতনা /এইচএম

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category