আজ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জের নিজ জেলায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির ৭৮তম জন্মদিন পালিত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে মহামান্য রাষ্ট্রপতির জন্ম দিন পালিত হয়েছে। বাংলাদেশের টানা দুইবারের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এঁর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে শুক্রবার (১জানুয়ারি) গুরুদয়াল সরকারী কলেজ সংলগ্ন নরসুন্দা নদীর তীরের মুক্তমঞ্চে ৭৮ তম জন্মদিনের ৭৮ পাউন্ড কেক কাটা হয়।

জন্মদিন উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত কেক কাটা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জন্মদিন উদযাপন পরিষদের আহবায়ক কিশোরগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিপি অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক।

কিশোরগঞ্জের নিজ জেলায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির জন্ম দিন পালিত

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুর রহমান,পুলিশ সুপার মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম বার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সুত্র ধর, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ পারভেজ মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, রাষ্ট্রপতিপুত্র রাসেল আহমেদ তুহিন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বকুল, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু,চিত্র নায়ক সাইমন সাদিক, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, জেলা যুবলীগের আহবায়ক অ্যডভোকেট আমিনুল ইসলাম সোহেল, সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শহীদুল ইসলাম হুমায়ুন, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম রানাসহ রাজনৈতিকদলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ব্যক্তিবর্গ,সামাজিক সাংস্কৃতিক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পরে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে লিখা বেতার ও টিভি শিল্পী আবুল হাশেম বাঙালি সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়াও ঢাকা হতে আগত শিল্পীদেও নিয়ে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধার আয়োজন করা হয়।
১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলা মিঠামইনের কামালপুর গ্রামে আদর্শিক রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জন্মগ্রহণ করেন।
হাওরের জল-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা ‘ভাটির শার্দুল’ খ্যাত মো. আবদুল হামিদ আজ দেশের টানা দুইবারের রাষ্ট্রপতি। তার বাবা হাজি মো. তায়েবউদ্দিন এবং মা তমিজা খাতুন।
কামালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু। এরপর ভৈরব কেবি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। এসএসসি পাস করেন নিকলী উপজেলার গোড়াচাঁদ হাইস্কুল থেকে।
কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পাস করার পর ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি নিয়ে কিশোরগঞ্জ বারে আইন পেশায় যোগ দেন আবদুল হামিদ।

১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত পছন্দে মাত্র ২৬ বছর বয়সে বিস্তীর্ণ হাওরের দুর্গম এলাকা থেকে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তদানীন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে (ময়মনসিংহ-১৮) সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। ভারতের মেঘালয়ে রিক্রুটিং ক্যাম্পে এবং সে সময়ে সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের (মুজিব বাহিনী) সাব-সেক্টর কমান্ডার পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হামিদ।

১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি পুনর্নিবাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি তার নির্বাচনী এলাকা থেকে ৭ বার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর চরম বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশেও আবদুল হামিদ তার বিশ্বাস এবং আদর্শের জায়গা থেকে তিলমাত্র বিচ্যুত হননি। এ কারণে ১৯৭৬ সালে তাকে কারাবরণ করতে হয়। তবে কোনো নিপীড়নই তাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। পরে তিনি একই সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পান। জাতীয় সংসদে সকল দলের কাছেই তিনি হয়ে ওঠেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।
২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে গেলে তিনি সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদে আবারও তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন।
প্রথম মেয়াদে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. আবদুল হামিদ শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মানব চেতনা/এমআর

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category