আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় শিক্ষক দিবস

বাংলাদেশের শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য সরকার ২০০৩ সালের ১৯ জানুয়ারী তারিখকে বাংলাদেশের “জাতীয় শিক্ষক দিবস” ঘোষণা করে। দিনটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে উদযাপনের কথা থাকলেও আজও তা করা হয়নি।

শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক, শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এমনকি সরকারও এই দিবসের কথা মনে রাখতে পারছে না অথবা অবহেলা করছে। এতসব দিবসে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বাণী প্রদান করেন কিন্তু শিক্ষক দিবসের কথা কেউ মনে রাখেনি। মুখে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের সম্মানে এত বাণী কিন্তু বাস্তবে পুরো উল্টো। হায়রে জাতীয় শিক্ষক দিবস!

যাদের কাছে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে কেহ মন্ত্রী, কেহ এমপি, কেহ ডাক্তার, কেহ ইঞ্জিনিয়ার কিংবা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত আছেন তারাও কি মনে রেখেছেন তাকে গড়ার এই কারিগরকে? আসলে কেউ মনে রাখেনি। শুধু কি তাই মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক যখন কোনো কাজে কোনো অফিসে যান তাদের বসতে বলা ত অস্বাভাবিক কথা সম্মান দেখিয়ে ঠিকভাবে কথাও বলা হয়না। অথচ শিক্ষক অভাবের জন কিংবা অজ্ঞতায় কোন ভুল করলে তখন বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক তার এই ভুল করা মোটেও ঠিক হয়নি। সমাজের এসব মানুষদের বিচার দেখে মনে হয় কতইনা মহান এই পেশা! যাদের মানুষ করি বা করলাম তারাই আমাদের বিচার করে অসম্মান করে। আবার, স্বার্থের ব্যাঘাত হলে খোটা দিয়ে বলে এরা শিক্ষক।

সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শিক্ষকদের সম্মান দেখায় কয়েকটি সময় ( যেমন, শিক্ষক মারা গেলে বলা হয় আজ আমরা একজন মহান ব্যক্তিকে হারালাম। যিনি সাড়া জীবন শুধু দিয়েই গেছেন, ছেলে বা মেয়ে কোন ভুল করলে আঙুল দেখিয়ে বলে একজন শিক্ষকের ছেলে বা মেয়ের একাজ করা মোটেও ঠিক হয়নি। আবার বক্তব্যে বলা হয় শিক্ষকতা একটি মহান পেশা ইত্যাদি) শিক্ষকদের এতবেশি সম্মান যে তা দিয়ে কোনো অফিসে না পায় বসতে, না পায় একবেলা খেতে। হায়রে সম্মান!

বাংলাদেশের শিক্ষকদের মত এত মহান শিক্ষক সমাজ বিশ্বের আর কোনো দেশে আছে কিনা জানা নাই। উন্নত বিশ্বে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে শিক্ষা চরম উৎকর্ষ সাধন করেছে। যেকারণে বাংলাদেশের কোনো শিক্ষক বিদেশে গেলে আর ফিরে আসতে চায়না। এমনকি বিশ্বের কোনো দেশের শিক্ষকদের সম্মান এবং সম্মানী বাংলাদেশের শিক্ষকদের চেয়ে কম কিংবা সমান নয়। শুধু কি তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে পাগলপ্রায় শিক্ষক সমাজ সম্মান এবং সম্মানী (বেতন) ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছে। এমন পেশা কি বিশ্বের আর কোনো দেশে আছে? এমনকি বাংলাদেশে একমাত্র পেশা। এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের যে সম্মান এবং সম্মানী দেয়া হয় তা অনেকে লজ্জায় বলতে সাহস পায়না। দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও বেতন পান ৮ম শ্রেণি পাস পিয়নের চেয়েও কম। এছাড়াও ১০০০টাকা বাড়ি ভাড়া, ২৫% উৎসব ভাতা ৫০০টাকা চিকিৎসা ভাতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি দ্বারা অযাচিত নির্যাতন এবং অবসর ভাতা বিহীন এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ। হায়রে এমপিওভুক্ত শিক্ষক!

বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই কোনো নিয়ম-নীতি। চলছে ধা ধার উপর। নিয়োগ বাণিজ্য একটা সাধারণ ব্যাপার। শিক্ষকদের নেই কোনো পদোন্নতি। সহকারী শিক্ষক থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হতে পূণরায় নিয়োগ নিতে অনেকেই সর্বশান্ত হয়ে যায়। এভাবে চললে শিক্ষা ব্যবস্থাও সার্বো শান্ত হয়ে যাবে।
তবে একথা ঠিক শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং উদারতার ফলেই আজ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে।

পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপুমনি মহোদয়ের নিকট প্রার্থনা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সম্মান এবং সম্মানী বৃদ্ধি করবেন এবং শিক্ষক দিবস উদযাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জয় হোক বাংলাদেশের
জয় হোক শিক্ষক এবং শিক্ষার।

লেখক
মোঃ বোরহান উদ্দীন সরকার
সভাপতি, বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি

Facebook Comments Box

Comments are closed.

     More News Of This Category