আজ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দেশের মডেল আশ্রয়ণ প্রকল্প যশোদল

 

আমিনুল হক সাদীঃ আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” স্লোগানে সৃজনশীল নানা উদ্যোগের মাধ্যমে যশোদল আশ্রয়ণ প্রকল্প এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জেলা প্রশাসক  মোহাম্মদ শামীম আলম এর নির্দেশনা অনুযায়ী আধুনিক কমিউনিটি সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এ প্রকল্পে শনিবার উপজেলা প্রশাসন, কিশোরপগঞ্জ সদর এর আয়োজনে যশোদল আশ্রয়ণ প্রকল্পে মুজিব স্মারক বৃক্ষরোপন, বৃক্ষরোপন কার্যক্রম, বিনোদন জোন ও লেকের ঘাট উদ্বোধন এবং উপকারভোগীদের মাঝে গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা এবং খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাগুফ্তা হক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  মোঃ আব্দুস সাত্তার, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মাছুমা আক্তার, যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী শফিকুল হক (বাবুল)। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল কাদির মিয়া। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দসহ অন্যান্যরা।

এ সময় মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক সেখানের প্রকল্পের ঘরগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন  উক্ত প্রকল্পের উপকারভোগীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং উপকারভোগীদের সকল বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে অবস্থানরত উপকারভোগীরা তাদের পূর্বের আশ্রয়হীন ও গৃহহীন অসহায় জীবন-যাপনের বর্ণনা দিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাদের গৃহ প্রদানের মাধ্যমে পরিবারসহ একটি সুন্দর জীবন উপহার প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে  সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দরা প্রকল্পের স্থানে বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন। উল্লেখ্য যে, যশোদল আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ২২ টি ঘর নির্মিত হয়েছে এবং ঘরগুলোকে টেকসই করার জন্য ঘরগুলোর চারদিকে প্যালাসাইডিং, গাইডওয়াল করা হয়েছে। প্রকল্পটিকে পরিবেশবান্ধব করার জন্য বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ওষধি বৃক্ষ রোপন করা হয়। তাছাড়াও উপকারভোগীদের জন্য বিনোদন জোনে দোলনা, স্লিপার, কৃত্রিম লেক, গোলঘর ও বসার স্থান, পানি পানের জন্য টিউবওয়েল এবং নামাজের জন্য নামাজের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের নানা সৃজনশীল উদ্যোগ দেখে উপস্থিত সবাই অভিভূত হন এবং এটিকে মডেল প্রকল্প হিসেবে মন্তব্য করেন।

সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আবদুল কাদির মিয়া বলেন, দামপাটুলী গ্রামের এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতে কোনোভাবেই নিম্নমানের কাজ হতে না পারে, সে জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমি সব সময় নিবিড়ভাবে তদারক করেছি। সারাদেশের মধ্যে কাজের মান ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে দেশের কোথাও কোথাও আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করার যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিপরীত চিত্র এই যশোদল। এই আশ্রয়ণ প্রকল্প স্বচ্ছতা ও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category