আজ ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

জো বাইডেন ইতিহাস গড়ে প্রেসিডেন্ট হলেন

অনলাইন ডেস্ক:৷ ইতিহাস গড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হলেন জো বাইডেন। টানটান উত্তেজনার ভোটযুদ্ধ শেষে অবশেষে তিনিই অতিক্রম করেছেন জয়ের সেই কাঙ্ক্ষিত ম্যাজিক ফিগার ২৭০। ভোটের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেছনে পেছনে রেখে ২৯০ ইলেক্টোরাল ভোটে হোয়াইট হাউস নিজেরই করে নিলেন দুইবারের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ। এদিকে ট্রাম্প পড়ে রয়েছেন সেই ২১৪টি ইলেক্টোরাল ভোটেই। হেরে গেলেন ‘বাইডেনের রাজনীতির’ কাছে।

বাইডেনের এ জয় যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়েছে । সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস তার দখলেই। এছাড়া এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পপুলার ভোট অর্জন করার ইতিহাসও সৃষ্টি করেছেন ৭৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ ডেমোক্র্যাট।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় এই প্রতিবেদন আপডেট করা পর্যন্ত জো বাইডেন ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল ভোটের মধ্যে ২৯০টি পেয়েছেন বলে জানায় দ্য গার্ডিয়ান। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। সিএনএন বলছে, বাইডেন পেয়েছেন ২৭৩টি ইলেক্টোরাল ভোট। নিউইয়র্ক টাইমস দিচ্ছে ২৭৯টি। ওয়াশিংটন পোস্ট দিচ্ছে ২৭৩টি। আল জাজিরাও দিচ্ছে ২৯০টি। আবার বিবিসি এবং রয়টার্স বলছে ২৭৩ ভোট।

কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বাকি ছিল। জর্জিয়া, নেভাদা, পেনসিলভেনিয়া, অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলিনা। এরমধ্যে শুধু নেভাদাতে বা বাকি চারটি রাজ্যের যেকোনো একটিতে জয় পেলেই হোয়াইট হাউস দৌড়ে সফল হওয়ার কথা ছিল জো বাইডেনের। অবশ্য তার সে পথ সহজ হয়ে গেছে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল আগেই। নেভাদা ও অ্যারিজোনায় অনেক আগেই এগিয়ে ছিলেন। এগিয়ে যান জর্জিয়ায়ও। এরপর রিপাবলিকান ঘাঁটি পেনসিলভেনিয়াতেও। যা আর থামেনি। ইলেক্টোরাল ভোটগুলো নিজের দখলে নিয়েছেন।

যত সময় যাচ্ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় তত কঠিন হচ্ছিল। আবারও হোয়াইট হাউস জয় করতে হলে পেনসিলভানিয়া এবং সঙ্গে বাকি চারটি রাজ্যের তিনটিতেও জয় দরকার ছিল রিপাবলিনকান প্রার্থীর। তার সেই আশা আশাই থেকে গেল। ১৯৯২ সালে জর্জ এইচডব্লিউ বুশের পর কোনো প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে না পারার রেকর্ড তার কাঁধেই ঝুলল।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মতে, জর্জিয়া (১৬ ইলেক্টোরাল ভোট), নেভাদা (ছয় ইলেক্টোরাল ভোট), অ্যারিজোনা (১১ ইলেক্টোরাল ভোট) ও পেনসিলভেনিয়া (২০ ইলেক্টোরাল ভোট)- এই চার রাজ্যে দুই প্রার্থীর ভাগ্য ঝুলছিল। তবে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের চোখ ছিল নর্থ ক্যারোলিনার ১৫টি ইলেক্টোরাল ভোটের দিকেও।

এর আগে জো বাইডেন জয়ের খুব কাছে চলে আসেন পেনসিলভেনিয়া ও জর্জিয়ায় নিজের অধিপত্য বিস্তার করে। অঙ্গরাজ্য দুটিতে শুরু থেকে এগিয়ে থাকা ট্রাম্পকে টপকে নিজেকে এগিয়ে নেন তিনি। যা পড়ে হয়ে ওঠে হোয়াইট হাউস জয়ের মূল চাবি। অবশ্য বাইডেন হোয়াইট হাউস জয়ে মাত্র ছয় ভোট দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যার ভরসা ছিল ছয় ইলেক্টোরাল ভোটের নেভাদা।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, জর্জিয়ায় শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) রাজ্যটিতে আবারও ভোটগণনা শুরু হলে দ্রুতই নিজের লিড হারাতে থাকেন তিনি। আবার শেষ দিকে এসে পেছনে পড়তে থাকেন পেনসিলভেনিয়াতেও।

সিএনএন বলেছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে জর্জিয়ার ১৬টি ভোট ট্রাম্পকে অবশ্যই পেতে হবে। না হলে তার আশা বাঁচবে না। তার ম্যাজিক ফিগার ২৭০-এ যাওয়া আশাই থেকে যাবে। তখন দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের মতে, জো বাইডেন এগিয়ে ছিলেন ২৬৪ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প পিছিয়ে ছিলেন ২১৪ ভোট নিয়ে।

কে এই জো বাইডেন?

জো বাইডেনের পুরো নাম জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র। জো বাইডেন নামেই তিনি পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম ভাইস প্রেসিডেন্ট তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে দুই মেয়াদে কাজ করেন। ১৯৭৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ডেলাওয়ার থেকে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার জন্ম ১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর। পেনসিলভেনিয়ার স্ক্রানটনে। স্ক্রানটন, নিউ ক্যাসল কাউন্টি ও ডেলাওয়ারে তার বেড়ে ওঠা। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। ১৯৭০ সালে ডেলাওয়ারের নিউ ক্যাসল কাউন্টির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হন জো বাইডেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় তার। এরপর ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল এক ভিডিওবার্তায় ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় প্রাইমারিতে লড়াইয়ের আভাস দেন বাইডেন।তথ্যসূত্র:সমকাল

মানব চেতনা/এমআর

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category